১৫ বছর পর চাকরিতে ফিরলেন সেই ডিসি কোহিনূর
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১০-০৩-২০২৬ ০৪:৪১:৪৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১০-০৩-২০২৬ ০৪:৪১:৪৮ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৫ বছর আড়ালে থাকার পর আবারও আলোচনায় ফিরে এসেছেন পুলিশ কর্মকর্তা মো. কোহিনূর মিয়া। রাষ্ট্রপতির পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে প্রায় দেড় দশক আগের বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তাকে সরকারি চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আদেশের মাধ্যমেই চাকরি ফিরে পান এই আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা।
সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তে কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তকালীন সময়কে চাকরিকাল হিসেবে গণনা করা হবে। পাশাপাশি এই সময়ের জন্য প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সব সুবিধাও তাকে দেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করেছেন এবং এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
কে এই কোহিনূর মিয়া?
বিসিএস ১২তম ব্যাচের কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায়। বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি ছিলেন তৎকালীন সরকারের আস্থাভাজন পুলিশ কর্মকর্তা। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে আত্মগোপনে চলে যান।
শামসুন্নাহার হলকাণ্ড থেকে শান্তা মামলা
২০০২ সালে বিএনপি জোট সরকারের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন কোহিনূর মিয়া। ওই বছরের ২৩ জুলাই গভীর রাতে হলের ফটক ভেঙে আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় তার নাম উঠে আসে।
২০০৬ সালের ১২ মার্চ ধানমন্ডির রাপা প্লাজার সামনে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন শাহিন সুলতানা শান্তা নামের এক নারী। ওই সময় তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি চলছিল। শান্তা অভিযোগ করেন, ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তিনি ভয়ে একটি ক্লিনিকে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে এবং তার ছেলেকে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তুলে মারধর করে।
ঘটনার দুদিন পর ২০০৬ সালের ১৪ মার্চ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তৎকালীন উপকমিশনার কোহিনূর মিয়া ও এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা করেন শান্তা। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা না পাওয়ার প্রতিবেদন দিলে শান্তা বিচার বিভাগীয় তদন্তের আবেদন করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০০৯ সালে আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন।
২০০৯ সালের অক্টোবরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই বরখাস্তের আদেশই বাতিল করা হলো।
শান্তা মামলার সর্বশেষ অবস্থা কী?
শান্তার করা মামলার অভিযোগপত্র জমা দিতে সময় লাগে ২০২১ সাল পর্যন্ত। ২০২৩ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। সম্প্রতি এ মামলায় তিনজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিলে তারা ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান। এরপরই আদালত কোহিনূরসহ তিন আসামিকে খালাস দেন।
নান্দাইল হত্যা মামলায়ও খালাস
২০০৪ সালের ৫ মে পৌরসভা নির্বাচনের সময় ময়মনসিংহের নান্দাইলের আচারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুজন ও আবু তাহের নামে দুজন নিহত হন। এ ঘটনায় শুরুতে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করলেও তদন্তে আসামি শনাক্ত না হওয়ায় একাধিকবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। পরে ২০০৭ সালে আওয়ামী লীগ নেতা রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরী, ময়মনসিংহের তৎকালীন পুলিশ সুপার কোহিনূর মিয়া ও পৌর মেয়র আবদুস ছাত্তার ভূঁইয়া উজ্জ্বলসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত করে ২০১১ সালে কোহিনূর মিয়া ও উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই মামলায়ও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেন আদালত।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স